হাইপোথাইরয়েডিজম (অল্প সক্রিয় থাইরয়েড) শুধুমাত্র ওষুধ নয় জীবনধারাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণও সম্ভব

হাইপোথাইরয়েডিজম

যখন হাইপোথাইরয়েডিজম বা অল্প সক্রিয় থাইরয়েড হওয়ার কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদন করতে পারে না তখন ক্লান্তি ওজন বৃদ্ধি ঠাণ্ডা লাগা এবং চুল ঝরা দেখা দেয়। যদিও ওষুধ মূল চিকিৎসা তবে কিছু প্রাকৃতিক ও জীবনধারা পরিবর্তন থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে উপসর্গ হ্রাসে এবং সার্বিক সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে।

১. সুষম পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস

  • প্রচুর শাকসবজি, ফল ,পূর্ণ শস্য, বাদাম বীজ ,লীন প্রোটিন যেমন মাছ ও ডাল খান।
  • পর্যাপ্ত আয়োডিন সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক পাওয়া জরুরি তবে অতিরিক্ত আয়োডিনেও সমস্যা বাড়তে পারে।
  • খাবার ও ওষুধ একসাথে না খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন কারণ কিছু খাবার থাইরয়েড হরমোনের শোষণে বাধা দিতে পারে।

২. নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন সক্রিয় থাকা

  • হাঁটা, সাঁতার কাটা ,সাইক্লিং ,ইয়োগা বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে ও মেটাবলিজমে সহায়তা করে।
  • ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় বাড়ান কারণ হাইপোথাইরয়েডিজমে অনেক সময় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৩. মানসিক চাপ প্রতিরোধ ভালো ঘুম ধূমপান পরিহার

  • মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুম থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মনোযোগমূলক অনুশীলন যেমন ধ্যান ও মেডিটেশন মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল থাইরয়েডের কার্যকারিতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তাই সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা উচিত।

৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চিকিৎসকের পরামর্শ

  • থাইরয়েড সম্পর্কিত রক্ত পরীক্ষা যেমন TSH ও Free T4 নির্ধারিত সময়ে করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের মাত্রা ঠিক রাখুন।
  • জীবনধারার পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

হাইপোথাইরয়েডিজম পুরোপুরি ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ,মানসিক শান্তি, ভালো ঘুম ও সময়মতো পরীক্ষা এই অভ্যাসগুলো থাইরয়েডের ভারসাম্য রক্ষা করে।
বাংলাদেশের মতো পরিবেশে সচেতন জীবনধারা ও নিয়মিত যত্নই থাইরয়েডজনিত উপসর্গ কমিয়ে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপন সম্ভব করতে পারে।

Scroll to Top