স্ক্যাবিস বা চুলকানি রোগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ত্বকের সমস্যা যা ক্ষুদ্র পরজীবী Sarcoptes scabiei এর কারণে হয়। এই পরজীবী ত্বকের নিচে প্রবেশ করে ডিম পাড়ে ফলে ত্বকে তীব্র চুলকানি ও লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। রোগটি যে কারও হতে পারে তবে বেশি হয় যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে যেমন স্কুল হোস্টেল বা পরিবারে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে।
স্ক্যাবিসের লক্ষণ
স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক চুলকানি যা রাতে আরও বেড়ে যায়। সাধারণত হাতে আঙুলের ফাঁকে কব্জি কনুই কোমর ও গোপনাঙ্গে চুলকানি হয়। এছাড়া নিচের লক্ষণগুলোও দেখা দিতে পারে
- ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোস্কা
- ত্বকের উপর সরু রেখার মতো চিহ্ন যা পরজীবীর চলার পথ নির্দেশ করে
- অতিরিক্ত চুলকানির কারণে ত্বকে ঘা বা সংক্রমণ
স্ক্যাবিস কীভাবে ছড়ায়
স্ক্যাবিস সহজেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়াতে পারে।
- ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে
- একই বিছানা, তোয়ালে বা পোশাক ব্যবহার করলে
- পরিবারে আক্রান্ত কেউ থাকলে পুরো পরিবারের মধ্যে দ্রুত ছড়াতে পারে
এই কারণেই স্ক্যাবিস শনাক্ত হলে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয় বরং তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা সবাইকে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়
চিকিৎসা:
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্যাবিসের জন্য বিশেষ ঔষধি ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হয় যেমন পারমেথ্রিন বা সালফারযুক্ত ক্রিম। ক্রিমটি সারা শরীরে লাগিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে হয় এবং এক সপ্তাহ পর পুনরায় প্রয়োগ করতে হয়।
পরিবারের সবার চিকিৎসা:
একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের সবাইকে একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে হয় যাতে পুনরায় সংক্রমণ না ঘটে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা:
সব পোশাক, বিছানার চাদর ও তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
চুলকানি নিয়ন্ত্রণে:
ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্ক্যাবিস থেকে বাঁচতে করণীয়
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
- আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন
- ব্যবহৃত পোশাক ও বিছানার চাদর নিয়মিত ধুয়ে ফেলুন
- শিশু বা বৃদ্ধদের ত্বকে নতুন ফুসকুড়ি দেখলে দ্রুত ডাক্তার দেখান
স্ক্যাবিস ভয় পাওয়ার মতো রোগ নয় তবে অবহেলা করলে এটি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং জটিল সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই স্ক্যাবিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মনে রাখবেন স্বাস্থ্য সচেতনতা মানেই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।





