নতুন মায়েদের দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়া এবং সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার

 নতুন মায়েদের দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে এবং সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার

সন্তান প্রসবের পর একজন মায়ের শরীর দ্রুত আরোগ্যের মধ্য দিয়ে যায়। রক্তক্ষয়, দীর্ঘ প্রসবের ধকল এবং ঘুমের অভাবের কারণে শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে। একই সাথে, যদি মা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তবে তার পুষ্টির চাহিদা গর্ভকালীন সময়ের থেকেও বেশি থাকে। প্রসব পরবর্তী এই সময়টিকে সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে পুনরুদ্ধার এবং শক্তির সঞ্চয় করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘চতুর্থ ট্রাইমেস্টার’ বলা হয়, যখন শরীরের দ্রুত শক্তি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও মিনারেল প্রয়োজন হয়।

 প্রসব পরবর্তী সময়ে শরীরের চাহিদা

প্রসবের পর শরীরের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো:

  • রক্তস্বল্পতা দূর করা: প্রসবের সময় রক্তক্ষয় হয়, তাই রক্তাল্পতা (Iron deficiency anemia) দূর করতে আয়রনের প্রয়োজন।
  • টিস্যু মেরামত: প্রোটিন প্রয়োজন হয় ছেঁড়া টিস্যু (যোনি প্রসব) বা সেলাইয়ের (সি-সেকশন) দ্রুত নিরাময়ের জন্য।
  • হরমোনের ভারসাম্য: হরমোনের পরিবর্তন সামলাতে ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের প্রয়োজন।
  • শক্তি পুনরুদ্ধার: পর্যাপ্ত ক্যালোরি এবং জটিল শর্করা (Complex Carbs) প্রয়োজন হয় সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে।

 প্রসব পরবর্তী পুনরুদ্ধার ডায়েট

 যা খাবেন:

১. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার: রক্তের ঘাটতি পূরণের জন্য এটি অপরিহার্য।

  • উৎস: লাল মাংস, কলিজা, ডিম, ডাল, ছোলা এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি। (ভিটামিন সি এর সাথে খেলে আয়রন শোষণ বাড়ে)।

২. প্রোটিন: টিস্যু মেরামত ও পেশি গঠনের জন্য প্রয়োজন।

  • উৎস: মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, পনির, মসুর ডাল।

৩. ফাইবার ও পানি: প্রসবের পর কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। ফাইবার ও পর্যাপ্ত পানি তা দূর করে।

  • উৎস: ফল (পেঁপে, কলা), ওটস, গোটা শস্য (Whole Grains), এবং দিনে ৩-৪ লিটার পানি।

৪. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (DHA): এটি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে এবং বুকের দুধের মান উন্নত করে।

  • উৎস: তৈলাক্ত মাছ (কম পারদযুক্ত), আখরোট, চিয়া বীজ।

৫. ক্যালসিয়াম: বিশেষত স্তন্যদানকারী মায়েদের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং শিশুর জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন।

  • উৎস: দুধ, টক দই, পনির, সবুজ শাক।

 যা খাবেন না বা এড়িয়ে চলবেন:

১. ক্র্যাশ ডায়েটিং: প্রসবের পরপরই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট শুরু করা উচিত নয়। এতে শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

২. অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন: এগুলো তাৎক্ষণিক শক্তি দিলেও পরে ক্লান্তি ও মেজাজ খারাপ করে।

৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Foods): এতে পুষ্টি কম থাকে এবং লবণ ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকে।

৪. অতিরিক্ত মশলাদার খাবার: বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু মশলা শিশুর গ্যাসের কারণ হতে পারে।

 কার্যকরী টিপস:

  • ছোট, পুষ্টিকর খাবার: একবারে বেশি না খেয়ে ঘন ঘন অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর স্ন্যাকস খান।
  • মিল প্রিপারেশন: সন্তান আসার আগে পুষ্টিকর খাবার রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখুন (যেমন: স্যুপ, খিচুড়ি)।
  • সাপ্লিমেন্ট: ডাক্তারের পরামর্শে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট চালিয়ে যান।

প্রসব পরবর্তী পুষ্টি শুধু শরীরের আরোগ্যের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি। পুষ্টিকর, সহজে তৈরি করা যায় এমন খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন মা তার শারীরিক ও মানসিক শক্তি দ্রুত ফিরে পেতে পারেন।

রেফারেন্স লিঙ্ক:

Scroll to Top