শীতে ঠোঁট ফাটছে? জেনে নিন নরম ও স্বাস্থ্যকর ঠোঁট পাওয়ার প্রাকৃতিক উপায় ও খাদ্যাভ্যাস

শীতে ঠোঁট ফাটছে জেনে নিন নরম ও স্বাস্থ্যকর ঠোঁট পাওয়ার প্রাকৃতিক উপায় ও খাদ্যাভ্যাস

শীতকাল এলেই অনেকের ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায়, চামড়া ওঠে এবং হাসতে বা কথা বলতে গেলে ব্যথা করে। এমনকি অনেকের ঠোঁট ফেটে রক্তও বের হয়। মুখের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। কিন্তু আমরা প্রায়ই ঠোঁটের যতোটা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, ততোটা নিই না। লিপবাম ব্যবহার করা একটি সাময়িক সমাধান মাত্র। ঠোঁট কেন ফাটে এবং স্থায়ীভাবে কীভাবে এর যত্ন নেওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

ঠোঁট কেন এত দ্রুত ফাটে?

আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অনেক পাতলা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের ঠোঁটে কোনো ‘সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ড’ (Sebaceous Gland) বা তেল গ্রন্থি নেই। শরীরের অন্যান্য ত্বক প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ করে নিজেকে আর্দ্র রাখে, কিন্তু ঠোঁট তা পারে না।

তাই শীতের শুষ্ক বাতাসে ঠোঁট সবার আগে আর্দ্রতা হারায়। এছাড়া, আমরা যখন জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাই, তখন লালার এনজাইমগুলো ঠোঁটের পাতলা চামড়াকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বাতাস লালা শুকিয়ে ফেলার সময় ঠোঁটের আর্দ্রতাও সাথে নিয়ে যায়।

ঠোঁট ফাটা রোধ করতে ভিটামিন ও মিনারেলসের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

 যা খাবেন:

১. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স: ঠোঁটের কোণ ফেটে যাওয়া বা ‘অ্যাঙ্গুলার চেইলাইটিস’ (Angular Cheilitis) অনেক সময় ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) বা অন্যান্য বি ভিটামিনের অভাবে হয়। তাই ডিম, দুধ, পনির, এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন।

২. আয়রন ও জিঙ্ক: আয়রনের অভাবে ঠোঁট ফ্যাকাশে ও শুষ্ক হতে পারে। ডাল, বিচি জাতীয় খাবার, পালং শাক, এবং লাল মাংস আয়রনের ভালো উৎস।

৩. পানি: ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার প্রথম লক্ষণ দেখা যায় ঠোঁটে। শীতে তৃষ্ণা না পেলেও দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

৪. ভিটামিন সি: কোলাজেন উৎপাদনের জন্য সাইট্রাস ফল খান, যা ঠোঁটের ত্বককে সজীব রাখে।

যা খাবেন না:

১. অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার: ঠোঁট ফেটে থাকলে ঝাল খাবার জ্বালাপোড়া বাড়াবে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করবে।

২. অ্যাসিডিক খাবার: অতিরিক্ত টক বা ভিনেগার যুক্ত খাবার ফাটা ঠোঁটে লাগলে ব্যথা হতে পারে।

 ঘরোয়া যত্ন ও প্রাকৃতিক উপায়:

১. ঘি বা মাখন: প্রাচীনকাল থেকেই ঠোঁটের যত্নে ঘি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাতে ঘুমানোর আগে এক ফোঁটা খাঁটি ঘি ঠোঁটে ম্যাসাজ করলে তা সারারাত ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ করে এবং ফাটা সারায়।

২. নারকেল তেল: এটি প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ঠোঁটের প্রদাহ কমায়।

৩. মধু ও চিনির স্ক্রাব: ঠোঁটে মরা চামড়া জমলে লিপবাম কাজ করে না। সপ্তাহে একদিন সামান্য মধু ও চিনির দানা মিশিয়ে খুব আলতো করে ঠোঁট স্ক্রাব করুন। এরপর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। (সতর্কতা: ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হলে স্ক্রাব করবেন না)।

 বদভ্যাস ত্যাগ করুন:

  • জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো: এটি ঠোঁট ফাটার প্রধান কারণ। এই অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন।
  • চামড়া টেনে তোলা: ফাটা চামড়া হাত দিয়ে টেনে তুলবেন না, এতে ইনফেকশন হতে পারে।
Scroll to Top