মাইগ্রেন হলো এক প্রকারের তীব্র মাথাব্যথা যা সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এটি মূলত মাথার একটি দিকে বা দুই দিকেই হতে পারে এবং নাসা, চোখ, গলা, বা ঘাড়ের পেশিতে ব্যথা অনুভূত হয়। মাইগ্রেন শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, এটি মানসিক চাপ, কাজের দক্ষতা ও জীবনযাত্রায় সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।
মাইগ্রেন কী ?
মাইগ্রেন একটি স্নায়ুবিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালী অস্থির হয় এবং স্নায়ু কোষে অস্বাভাবিক রাশয়নিক পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে মাথার এক পাশে বা দুই পাশে তীব্র ব্যথা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং বমি বা বমিভাব দেখা দেয়।
মাইগ্রেনের কারণ
- জেনেটিক প্রভাব, পরিবারের মধ্যে আগে কেউ মাইগ্রেনের রোগী থাকলে ঝুঁকি বেশি
- হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষত মহিলাদের মধ্যে মাসিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
- অনিয়মিত ঘুম বা ঘুমের অভাব
- নির্দিষ্ট খাবার যেমন চকলেট, কফি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চর্বি
- চোখ বা মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ
- পরিবেশগত কারণ, যেমন তীব্র আলো, শব্দ বা গন্ধ
মাইগ্রেনের সাধারণ লক্ষণ
- মাথার একপাশে বা দুই পাশে তীব্র, ধমকানো ব্যথা
- আলোর বা শব্দের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
- বমি বা বমিভাব
- দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা আলো দেখা
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে চাপ বা কড়াভাব
মাইগ্রেনের অরিয়া বা প্রোড্রোমাল লক্ষণ
- মন খারাপ বা উদাসীনতা
- ঘুমের সমস্যা
- ক্ষুধা কমে যাওয়া
- চোখ বা হাতের পেশিতে অসুবিধা
চিকিৎসা ও প্রতিকার
মাইগ্রেনের নিরাময় এখনো সম্ভব নয়, তবে চিকিৎসা ও জীবনযাপন পরিবর্তনের মাধ্যমে এর তীব্রতা ও ফ্রিকোয়েন্সি কমানো সম্ভব ।
- ঔষধ মাথাব্যথা কমাতে ট্রিপটান বা পেইন রিলিভার ওষুধ
- হালকা ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম চাপ কমাতে সহায়তা করে
- ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা
- পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ যেমন আলোর তীব্রতা কমানো, শব্দ কমানো
- ডায়েট পরিবর্তন নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ধ্যান ও রিলাক্সেশন
মাইগ্রেনের প্রতিরোধের উপায়
- নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম বজায় রাখা
- চাপ কমাতে ধ্যান ও যোগব্যায়াম
- প্রক্রিয়াজাত ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া
- পর্যাপ্ত পানি পান করা
- চোখ ও মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলা
- পরিবারের মধ্যে জেনেটিক ঝুঁকি থাকলে সময়মতো চিকিৎসক পরামর্শ নেওয়া
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
মাইগ্রেনের সময় মস্তিষ্কের রক্তনালী অস্থির হয় এবং সেরোটোনিনসহ কিছু নিউরোট্রান্সমিটার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন স্নায়ু সংকেতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাথার একপাশে বা দুই পাশে ব্যথা সৃষ্টি করে। আলোর বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা, বমিভাব এবং ক্লান্তি এই স্নায়ুবিক অস্থিরতার কারণে দেখা দেয়।
মাইগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা, সঠিক ঘুম, চাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পরিবেশ সচেতনতা মাইগ্রেনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। সচেতন জীবনযাপন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।





