বিটরুট বা বিট হলো এমন এক সুলীল রঙের শাকমূল যা খাদ্যতালিকায় একমাত্র স্বাদ পোড়ায় না বরং জীবনের ভিতর থেকে শক্তি আর সুস্থতা জাগিয়ে তোলে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, পটাশিয়াম, আয়রন, ফাইবার এবং এক অনন্য ফুটন্ত উপাদান নাইট্রেট, যা রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎ স্বাস্থ্যকে এক নতুন মাত্রা দেয়। প্রতিদিন একেক টুকরো বিটরুট বা তার জুস আপনার দেহ ও মনকে করবে আরও সতেজ ও রূপবতী।
পুষ্টিগুণ ও গুণাবলী
- বিটরুটে রয়েছে অনেকটা ফোলেট (ভিটামিন B9), যা কোষ বিভাজন ও নবজাতকের মস্তিষ্ক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নাইট্রেটের ভালো উৎস যা শিরা প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
- বিটরুটে আছে betalains নামক রঙিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমায় ও কোষগুলোকে রক্ষা করে।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
হৃদরোগের প্রতিরোধে সহায়ক
বিটরুটে থাকা নাইট্রেট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃৎ রোগের ঝুঁকি কমায়।
হজম ও অন্ত্রের সুস্থতায়
এই শাকমূলের ফাইবার পেট ভরিয়ে রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স বাড়ায়
স্পোর্টস বা ব্যায়ামের আগে বিটরুট জুস গ্রহণ করলে রক্তে অক্সিজেন পৌঁছানোর হার বাড়তে পারে, ফলে ক্লান্তি কম হয় ও স্থায়ী শক্তি আসে।
ত্বক ও চুলে উজ্জ্বলতা
বিটরুটের রঙ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষ পুনঃগঠন করবে এবং চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখবে।
সেরা উপায় খাবারে যুক্ত করার
- কাঁচা সালাদে করে বিটরুট দিন, এতে রঙ ও স্বাদ দুইই বাড়ে।
- বিটরুট জুস তৈরি করুন, কিন্তু যদি রক্তচাপের কোনো ওষুধ নিচ্ছেন তাহলে আগে ডাক্তার দেখান।
- ওটস বা দইয়ে ছোট ছোট বিটরুট টুকরো মিশিয়ে মধ্যাহ্ন বা বিকেলের স্ন্যাকস বানান।
সতর্কতা
বিটরুট সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে অক্সালেটের মাত্রা বাড়তে পারে যা কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।
যদি রক্তচাপ কম বা বেশি হয়, অথবা রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিচ্ছেন তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।





