পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বা PID নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের নীরব ঝুঁকি

পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ PID নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের নীরব ঝুঁকি

পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বা PID হলো নারীর প্রজনন অঙ্গের একটি সংক্রমণজনিত রোগ যা ফ্যালোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় ও জরায়ুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। অনেক সময় লক্ষণ স্পষ্ট না থাকায় অনেক নারী বুঝতেই পারেন না যে শরীরের ভেতর ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে PID বন্ধ্যাত্ব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং গর্ভধারণ জটিলতার মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই PID নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।

PID কীভাবে হয়

PID সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়। অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক, একাধিক যৌনসঙ্গী, অথবা প্রসব ও গর্ভপাতের পর সঠিক যত্ন না নেওয়া PID এর ঝুঁকি বাড়ায়।
সবচেয়ে সাধারণ দুটি ব্যাকটেরিয়া হলো

  • ক্ল্যামিডিয়া
  • গনোরিয়া
    এসব ব্যাকটেরিয়া যোনি থেকে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবে ছড়িয়ে পড়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

PID এর সাধারণ লক্ষণ

অনেক সময় PID নীরবে থাকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ হলো

  • তলপেটে বা পেলভিকে ব্যথা
  • অস্বাভাবিক স্রাব ও দুর্গন্ধ
  • জ্বর অথবা ঠান্ডা লাগা
  • যৌনসম্পর্কে ব্যথা
  • মাসিক অনিয়ম বা অতিরিক্ত রক্তপাত
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
    লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

PID এর কারণ

  • অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক
  • একাধিক যৌনসঙ্গী
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ ডিভাইস IUD পর পরবর্তী সঠিক পরীক্ষা না করা
  • প্রসব, গর্ভপাত বা সার্জারির পরে সংক্রমণ
  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব

PID এর জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে PID দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে

  • বন্ধ্যাত্ব
  • ফ্যালোপিয়ান টিউবে দাগ সৃষ্টি
  • দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা
  • গর্ভাবস্থায় ইকটপিক প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি
  • প্রজনন অঙ্গের স্থায়ী সমস্যা
    PID যত বেশি সময় চিকিৎসা ছাড়া থাকে তত বেশি জটিলতা বাড়ে।

PID এর চিকিৎসা

PID এর চিকিৎসা মূলত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে হয়।

  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো পূর্ণমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
  • ব্যথা কমাতে উপযুক্ত ব্যথানাশক
  • যৌনসঙ্গীরাও একই সঙ্গে চিকিৎসা নেবেন যাতে পুনরায় সংক্রমণ ছড়ায় না
  • গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে

PID প্রতিরোধে যা করবেন

  • সবসময় নিরাপদ যৌনচর্চা
  • নিয়মিত গাইনোকলজিক্যাল চেকআপ
  • সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
  • একাধিক যৌনসঙ্গী এড়িয়ে চলা
  • লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া

PID একটি নীরব সংক্রমণ যা অবহেলা করলে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সময়মতো শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিরাপদ অভ্যাসই পারে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে। নিজের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন এবং নিয়মিত যত্ন নিয়ে থাকুন সুস্থ ও নিরাপদ।

Scroll to Top