ডিসমেনোরিয়া ব্যথাযুক্ত মাসিক  নারীর নীরব কষ্টের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং সহজ সমাধান

ডিসমেনোরিয়া ব্যথাযুক্ত মাসিক  নারীর নীরব কষ্টের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং সহজ সমাধান

ডিসমেনোরিয়া হলো ব্যথাযুক্ত মাসিক যেখানে পিরিয়ডের আগে বা চলাকালীন তলপেট, কোমর ও পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক নারীই এই ব্যথাকে স্বাভাবিক মনে করে চেপে রাখেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি শরীরের হরমোন পরিবর্তন ও জরায়ুর সংকোচনজনিত একটি চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসার মাধ্যমে ডিসমেনোরিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ডিসমেনোরিয়া কী

ডিসমেনোরিয়া দুই ধরনের হতে পারে
1. প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া
এটি বেশি দেখা যায় কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে। জরায়ুর সংকোচনের ফলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক রাসায়নিক নিঃসরণ বাড়ে যা ব্যথা তৈরি করে।
2. সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া
এটি কোনো অন্তর্নিহিত রোগের কারণে হয় যেমন এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড বা পেলভিক ইনফ্লামেশন সমস্যা। এই ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

প্রধান লক্ষণ

  • তলপেটে ক্র্যাম্প বা টান
  • কোমর ও পিঠে ব্যথা
  • বমিভাব, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা
  • মেজাজ পরিবর্তন বা খিটখিটে ভাব
  • ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা

কেন ব্যথা হয়

মাসিকের সময় জরায়ু তার আস্তরন ঝরাতে সংকুচিত হয়। এই সংকোচন তীব্র হলে জরায়ুর রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা বেশি হলে ব্যথা আরও বাড়ে।

ডিসমেনোরিয়া নিয়ন্ত্রণে যা করবেন

গরম সেঁক
তলপেটে গরম পানির ব্যাগ দিলে ব্যথা দ্রুত কমে।
হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা
শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ব্যথা কমে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস
ওমেগা ৩, লৌহ ও ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।
পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম
ডিহাইড্রেশন ব্যথা বাড়াতে পারে তাই পানি পান জরুরি।
ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ
NSAIDs ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ ব্যথা কমাতে কার্যকর তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

  • ব্যথা সহ্য করা অসম্ভব হলে
  • মাসিক বন্ধ হয়ে অনিয়ম দেখা দিলে
  • ব্যথা কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকলে
  • জ্বর, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা বমি স্থায়ী হলে
    এসব লক্ষণ সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া বা অন্য কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়েও আরাম পাওয়া যায়

  • আদা বা তুলসী চা
  • হালকা যোগব্যায়াম
  • লেবু গরম পানি
  • পর্যাপ্ত ঘুম

ডিসমেনোরিয়া নারীর জীবনে অস্বস্তি ও দুর্বলতা সৃষ্টি করলেও এটি স্বাভাবিক নয়। ভুল ধারণা নয় বরং যত্ন, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে ব্যথামুক্ত জীবনে ফিরে যেতে সাহায্য করতে। প্রতিটি নারীই আরাম এবং সুস্থতার অধিকারী তাই ব্যথা চেপে না রেখে সমাধানের পথে এগিয়ে যান।

Scroll to Top