বাংলাদেশে শীত শুরু হলে সর্দি কাশি বেড়ে যায় কারণ এই সময় ভাইরাস খুব সহজে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ঠান্ডা পরিবেশে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। নাকের ভেতরের সুরক্ষামূলক ঝিল্লি শুকিয়ে পড়ে এবং ভাইরাস শরীরে ঢোকার পথ পেয়ে যায়। বিশেষ করে রাইনোভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং আর এস ভি ঠান্ডা আবহাওয়ায় দ্রুত ছড়ায়।
শীতকালে বাংলাদেশের শহর এলাকায় ধুলাবালি এবং বায়ু দূষণ কিছুটা বেড়ে যায়। দূষণের ক্ষুদ্র কণা শ্বাসতন্ত্রকে সংবেদনশীল করে তোলায় ভাইরাস আরও সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই মৌসুমে মানুষ ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটায় ফলে বদ্ধ পরিবেশে ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। স্কুল অফিস বাসা সব জায়গায় সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হয়ে যায়।
শীত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সাময়িকভাবে দুর্বল করে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শরীরের প্রতিরোধী কোষ আগের মতো শক্তভাবে কাজ করতে পারে না। তাই যে ভাইরাস সাধারণ সময়ে তেমন ক্ষতি করতে পারে না সেই ভাইরাসও শীতে সমস্যা তৈরি করে।
শীতে সর্দি কাশি প্রতিরোধে করণীয়
- উষ্ণ পানি নিয়মিত পান করুন।
- বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন।
- ঘরের জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।
- ভিটামিন সি যুক্ত ফল, মাল্টা ,পেয়ারা , লেবু নিয়মিত খান।
- হাত ধোয়ার অভ্যাস বাড়ান।
- রাতে ঘুমানোর সময় গরম কাপড় বা কম্বল ব্যবহার করুন।
- ঠান্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।
কখন চিকিৎসক দেখানো জরুরি
- জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে
- শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
- বয়সী মানুষ বা শিশুদের উপসর্গ দ্রুত খারাপ হলে
- বুকে ব্যথা বা শ্বাসের শব্দ পরিবর্তন হলে
এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।





