বক্ষ ক্যান্সার নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্যান্সারগুলোর একটি। যদিও বয়স ও বংশগত কারণের মতো কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবু সঠিক জীবনধারা ও সচেতনতা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং চিকিৎসার পর সুস্থ জীবন বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
১. স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
- দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজ রাখুন ।
- লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান কারণ এগুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে ।
- সুষম খাদ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ।
২. নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা সাইক্লিং করুন ।
- ব্যায়াম শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
- নিয়মিত সক্রিয় থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে যা বক্ষ ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে ।
৩. ধূমপান পরিহার ও অ্যালকোহল সীমিতকরণ
- ধূমপান শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় ।
- অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন কারণ এটি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে ।
- পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘুমের অভ্যাস শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে ।
৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্রেস্ট এক্সাম ও ম্যামোগ্রাম করান ।
- স্তনে কোনো গুটলি, ফোলাভাব বা ত্বকের পরিবর্তন হলে দ্রুত পরীক্ষা করুন ।
- দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্য অনেক বাড়ে ।
৫. মানসিক সুস্থতা ও সহায়ক জীবনযাপন
- মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, যোগব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন ।
- ইতিবাচক মানসিকতা ও পরিবারিক সহায়তা ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পরবর্তী জীবনে অত্যন্ত সহায়ক ।
বক্ষ ক্যান্সার ভয় নয় সচেতনতা ও যত্নই আসল প্রতিরোধ। সুষম খাদ্যাভ্যাস নিয়মিত ব্যায়াম ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন সময়মতো পরীক্ষা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা এই অভ্যাসগুলো নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করতে পারে। জীবনধারা পরিবর্তনই হতে পারে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।





