সার্ভিকাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো উচ্চ ঝুঁকির হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি সংক্রমণ। সুখবর হলো টিকা গ্রহণ নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা মেনে চললে এই রোগ বড় অংশে প্রতিরোধযোগ্য। চিকিৎসা দরকার হলে তা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞ। জীবনধারার পদক্ষেপগুলো প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ফল ভালো রাখতে সহায়ক ।
১. টিকা ও স্ক্রিনিং
- উপযুক্ত বয়সে এইচপিভি টিকা নিন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি ।
- নিয়মিত প্যাপ টেস্ট বা এইচপিভি টেস্ট করুন বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী সময়সারণি চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন ।
- স্ক্রিনিং অস্বাভাবিক কোষ আগেই শনাক্ত করে যা সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ দেয় ।
২. নিরাপদ যৌন আচরণ
- কনডম ব্যবহার যৌন সঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা এবং অল্প বয়সে যৌন জীবন শুরু না করা এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় ।
- ধূমপান পরিহার করুন কারণ ধূমপান সার্ভিকাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় ।
৩. সুষম খাদ্য ও দৈহিক সক্রিয়তা
- ফল ,শাকসবজি ,পূর্ণ শস্য , ডাল , বাদাম ও মাছভিত্তিক খাদ্য রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ।
- পর্যাপ্ত ভিটামিন ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের সুস্থতা রক্ষা করে ।
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা , সাইক্লিং বা সাঁতার ,ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করে ।
৪. মানসিক সুস্থতা ও ঘুম
- নিয়মিত ঘুম , ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমায় ।
- দীর্ঘস্থায়ী চাপ ইমিউন প্রতিক্রিয়া দুর্বল করে তাই দৈনন্দিন রুটিনে বিশ্রাম ও আরাম রাখুন
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত ফলো আপ
- অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত পিরিয়ডের বাইরে দাগ বা ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত গাইনিকোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ।
- চিকিৎসা পরিকল্পনা যেমন সার্জারি , রেডিয়েশন , কেমোথেরাপি বা টার্গেটেড থেরাপি রোগের ধাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় ।
- চিকিৎসার সময়ে পুষ্টিকর খাদ্য পর্যাপ্ত পানি এবং হালকা ব্যায়াম , শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি ।
টিকা স্ক্রিনিং নিরাপদ যৌন আচরণ , ধূমপান বর্জন ,সুষম খাদ্য , নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক সুস্থতা সার্ভিকাল ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করুন সচেতন জীবনধারা ও সময়মতো চিকিৎসাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় ।





